প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সাত দফা দাবিতে নীলফামারীতে দলিল লেখক সমিতির নীতি নির্ধারণী সভা
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নীলফামারীর প্রতিনিধি ||
দলিল নিবন্ধন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করে তাদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নীলফামারীতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির নীতি নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দুপুরে নীলফামারী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলিল লেখকরা অংশ নেন। সভায় দলিল লেখকদের পেশাগত সংকট, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির রংপুর বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক বলেন, "দলিল নিবন্ধন পদ্ধতি আধুনিকায়নের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আধুনিকায়নের নামে হাজার হাজার লাইসেন্সধারী দলিল লেখকের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। সরকারকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও দলিল লেখকদের কর্মসংস্থান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।"তিনি আরও বলেন, "লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকরাই আইন অনুযায়ী দলিলের মুসাবিদা করবেন। এ বিষয়ে দ্রুত সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দলিল লেখকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন করলে পেশার জবাবদিহি ও মান আরও উন্নত হবে।"নীলফামারী জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির রাজশাহী বিভাগের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এসএম আয়নাল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী সরকারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।বক্তারা বলেন, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে আইনানুগভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ নানা প্রশাসনিক জটিলতা, আধুনিকায়নের নামে নতুন সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাবে তারা পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে সারা দেশের দলিল লেখকরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলেও তারা সতর্ক করেন।সভা থেকে বক্তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—দলিলপ্রতি লেখকের সম্মানী পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকদের দলিলের মুসাবিদা করার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া নতুন লাইসেন্স প্রদান বন্ধ, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্ধারণ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লেখক বা মুসাবিদাকারীকে মামলার আসামি না করার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, দলিল লেখকদের জন্য স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান এবং দলিল নিবন্ধন পদ্ধতি আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে দলিল লেখকদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।সভার শেষে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের প্রতি দ্রুত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত আজকের ডোমার