প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন
মো. সাইফুল ইসলাম , নীলফামারী প্রতিনিধি ||
নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে পৃথক মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিক ও সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। তারা প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় জলঢাকা পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট মোড়ে ‘সচেতন জলঢাকাবাসী’র আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মনিরুজ্জামান মিঠু। বক্তব্য দেন হাবিবুর রহমান, নুর ইসলাম, বাবুল হোসেন, মোশফেকুর রহমান, খলিলুর রহমান, আব্দুল লতিফ লালসহ অনেকে।বক্তারা বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কোনো বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়ে থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না।মানববন্ধনে হাবিবুর রহমান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে জলঢাকা উপজেলা প্রশাসনের দলীয়করণের প্রতিবাদেই আমাদের এই মানববন্ধন। আমরা বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দিচ্ছি। এ সময়ের মধ্যে নিয়োগ বাতিল করা না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাওসহ জলঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”তিনি আরও বলেন, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না। প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করতে হবে।মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদ র্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিয়োগের অনিয়মের প্রতিবাদে স্লোগান দেন। র্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবু সাঈদ চত্বর ও ট্রাফিক মোড় হয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।এদিকে একই দিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন সচেতন নাগরিক ও সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। ‘সচেতন নাগরিক মহল’ আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক অংশ নেন।মানববন্ধনে পরীক্ষার্থী আলামিন ইসলাম, আতাউর রহমান ও আরিফ হোসেন বক্তব্য দেন। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দুই ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাধারণ প্রার্থীরা সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফল প্রকাশে প্রায় ২০ দিন ধরে দীর্ঘসূত্রতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।বক্তাদের অভিযোগ, কখনো জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ফল প্রকাশের কথা বলা হয়েছে, আবার কখনো অন্য কারণ দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। পরে গত ২০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ তালিকা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।তাদের দাবি, প্রকাশিত তালিকায় বিএনপির নেতাকর্মী, তাদের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের নাম বেশি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি কোনো কোনো ওয়ার্ডে পাঁচজনের বেশি নিয়োগ দেওয়া হলেও অন্য ওয়ার্ড থেকে কাউকে রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।মানববন্ধনে বক্তারা প্রকাশিত ফলাফলকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করে মেধা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নতুন করে ফল প্রকাশের দাবি করেন।তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিতে হবে। দুই উপজেলাতেই বক্তারা দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ সমাধানের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত আজকের ডোমার