প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
জলঢাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ১ লাখ টাকা
মো. সাইফুল ইসলাম , নীলফামারী প্রতিনিধি ||
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ও মেশিন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশচন্দ্রপাঠ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিশচন্দ্রপাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিন ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। স্থানীয়ভাবে এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে হাবিবুর মেম্বার রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ও মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো ভেঙে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো দিয়ে পুনরায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা না যায়। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্টদের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন জলঢাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ। এ সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. তানজীর ইসলাম ও মো. আসাদুজ্জামান, র্যাবের এএসপি তৌহিদসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বোমা ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার মাটির গঠন পরিবর্তন, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিজমির কাছাকাছি থেকে যন্ত্রের সাহায্যে বালু উত্তোলন করায় জমির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তাদের অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রশাসনের অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে শুধু এক দিনের অভিযান নয়, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়রা আরও বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে কোনো কৃষিজমি বা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জলঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত আজকের ডোমার