এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মনে করায় আগামীকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর পর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল বিজয় ’২৪ হলে ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগে হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি ধারায় মামলা করেছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে শাস্তির প্রক্রিয়া চলবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
এ ছাড়া হল প্রভোস্ট বডির ভূমিকা তদন্তে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবগত থাকবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবি ছিল, যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনবিরোধী কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তৃতীয় দাবি ছিল ‘স্পন্দন ২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ক্লাবটির বিতর্কিত কমিটি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত ঘোষণা করে সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আগামী রোববার ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন।
রোববার থেকে স্বাভাবিক হবে বিশ্ববিদ্যালয় রোববার থেকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানানো হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, এসব দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কবেন। ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদমান রহমান বলেন, ‘আমাদের টার্ম পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক।’ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম জারা বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার আন্দোলন ছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছি।’
বিষয় : খুবি শিক্ষার্থী ক্লাস শুরু

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার পর অবশেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মনে করায় আগামীকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর পর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল বিজয় ’২৪ হলে ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগে হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি ধারায় মামলা করেছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে শাস্তির প্রক্রিয়া চলবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
এ ছাড়া হল প্রভোস্ট বডির ভূমিকা তদন্তে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবগত থাকবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবি ছিল, যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনবিরোধী কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তৃতীয় দাবি ছিল ‘স্পন্দন ২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ক্লাবটির বিতর্কিত কমিটি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত ঘোষণা করে সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আগামী রোববার ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বাস দিয়েছেন।
রোববার থেকে স্বাভাবিক হবে বিশ্ববিদ্যালয় রোববার থেকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানানো হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, এসব দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কবেন। ভবিষ্যতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাদমান রহমান বলেন, ‘আমাদের টার্ম পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হোক।’ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম জারা বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার আন্দোলন ছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছি।’

আপনার মতামত লিখুন