আজকের ডোমার

মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে

কোরবানি আল্লাহ তাআলার অন্যতম মহান নিদর্শন। এই ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং তাকওয়া। তাই কোরবানির পশু ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও সংযত ও শরিয়তসম্মতভাবে হওয়া উচিত।ইসলামে পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা বৈধ। রাসুল (সা.) নিজেও তাঁর বাহন ও পশুর নাম রেখেছেন। যেমন তাঁর উটের নাম ছিল ‘কাসওয়া’ ও ‘আদবা’, ঘোড়ার নাম ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ‘দুলদুল’।এ থেকে বোঝা যায়, আদর ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা শরিয়তসম্মত এবং এটি ইসলামি সংস্কৃতি বিরোধী নয়।যদিও পশুর নাম রাখা বৈধ, তবে কিছু ক্ষেত্রে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এর দুটি প্রধান কারণ হলো,১. মানুষের মর্যাদার বিষয়ইসলাম ধর্মে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন। (সুরা ইসরা, আয়াদ : ৭০)তাই মানুষের নামে পশুর নাম রাখা অনেক সময় অশোভন মনে হতে পারে এবং মানবমর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শঙ্কা তৈরি করে।২. বিদ্রুপ ও তাচ্ছিল্য থেকে বিরত থাকাঅনেক সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পরিচিত কারও নাম কোরবানির পশুকে দেওয়া হয়, বিদ্রুপ বা ঘৃণার উদ্দেশ্যে। ইসলাম এ ধরনের আচরণ কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।কোরআনে বলা হয়েছে, একে অপরকে মন্দ নামে ডাকা এবং বিদ্রুপ করা থেকে বিরত থাকতে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)আজকাল কোরবানির পশুর নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’-এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে এটি হাস্যরস বা ঘৃণার প্রকাশ মনে হলেও বাস্তবে এটি কোরবানির পবিত্রতা ও ইবাদতের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করে।কোরবানি একটি ইবাদত, যেখানে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেখানে বিদ্বেষ, ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক মনোভাব যুক্ত হলে ইবাদতের ইখলাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে মানুষের মর্যাদাহানিকর, বিদ্রুপমূলক বা বিতর্কিত নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং একনিষ্ঠতা।

সৈয়দপুরে পুকুরে ডুবে ডোমারের যুবকের মৃত্যু

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে সৈয়দপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্র মারা গেছে। শনিবার (২৩মে) দুপুরে কলেজ সংলগ্ন মাস্টারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত ছাত্রের নাম রাফিদ রহমান কাব্য (১৮)। সে ওই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।কাব্যের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিকনমাটি এলাকার মোজাপাড়ায়। সে ওই গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান কাব্য শহরের নীচুকলোনীতে মা শাম্মী আক্তারের সাথে একটি ভাড়া বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো।ঘটনার দিন তারা ৭ বন্ধু (ক্লাসমেট) মিলে কলেজের মাঠে ফুটবল খেলার পর ওই পুকুরে গোসল করতে যায়। এসময় কাব্য সাঁতরে পুকুরের মাঝামাঝি যায়। কিন্তু ফেরার সময় হঠাৎ ডুবে গিয়ে অনেক গভীরে তলিয়ে যায়।বন্ধুরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে পাশেই একটা বিল্ডিংয়ে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের ডেকে আনে। তারা এসে তাকে অজ্ঞান ও নিথর অবস্থায় উদ্ধার করার পর দ্রুত স্থানীয় সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সৈয়দপুরে পুকুরে ডুবে ডোমারের যুবকের মৃত্যু

ডোমারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে নীলফামারীর চিলাহাটির আমবাড়ি কোরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। দূর-দূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা হাটে ভিড় করছেন। ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে হাটের বিশাল পরিসর ও মানুষের উপচেপড়া উপস্থিতি ফুটে উঠেছে।

ডোমারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
কোন পোস্ট নেই !

ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াতে শুরু করেছে ‘ইবোলা ভাইরাস’

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ভাইরাসটি প্রাথমিক ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৩টিরও বেশি সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সন্দেহ করা হচ্ছে।শুধু কঙ্গোতেই নয়, রোগটি সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও হানা দিয়েছে এবং সেখানে ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে।মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশটি এই প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। ‘বিগবয়’ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে তাঁদের চরম ভীতি ও সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, ইবোলা তাঁদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালাচ্ছে এবং পুরো এলাকার মানুষ এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মতো প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করলেও সেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। অনেক মানুষ এখনো মাস্ক ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক সরঞ্জামের অপেক্ষায় আছেন। আলফ্রেড গিজা নামের ইতুরির আরেক বাসিন্দা জানান, সাধারণ মানুষ এই রোগটির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হলেও পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা অনেকেরই জানা নেই।ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা অ্যান আনসিয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই সংক্রমণ ইতিমধ্যে কঙ্গোর সীমান্ত পেরিয়ে অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতুরি অঞ্চলটি অত্যন্ত অনিরাপদ এবং সেখানে মানুষের অবাধ চলাচল বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিস’-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কঙ্গোয় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে এবং গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন এই সংখ্যা খুব দ্রুতই এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস গত সপ্তাহেই এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মহামারির এই বিস্তার ও গতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইবোলার এই ভয়াবহ রূপ দেখে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রুয়ান্ডা কঙ্গোর সঙ্গে তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির জনগণকে এই সময়ে করমর্দন ও আলিঙ্গন এড়িয়ে চলার মতো কঠোর স্বাস্থ্যবার্তা দিয়েছে রুয়ান্ডা সরকার।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত ২৪ এপ্রিল এই ভাইরাসটি প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার আগেই অন্তত কয়েক সপ্তাহ ধরে তা অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল। বর্তমানে কঙ্গোয় যে ‘বান্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে, সেটির জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো নির্দিষ্ট টিকা নেই। তবে অন্যান্য ওষুধ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।উল্লেখ্য, ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্ত, বমি বা শরীরের যেকোনো তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই রোগ দ্রুত সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ টাকার নতুন নোটে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’

'বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য' শীর্ষক নতুন নকশার ৫ টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে সরকার।অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরে এ নোটের এক পিঠে আছে পুরান ঢাকার তারা মসজিদ এবং পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত শাপলার ছবি। অন্য পিঠে স্থান পেয়েছে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি।অর্থ মন্ত্রণলায়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে এই নতুন নোট ইস্যু করা হবে।চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টাকার নকশা থেকে বাদ পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। সরকারের সিদ্ধান্তে ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নকশায় মুদ্রা ছাপানো শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন নকশার নোট ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে। এসব নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষরে বাজারে আসে।বাংলাদেশে প্রচলনে থাকা মুদ্রার মধ্যে ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের নোট সরকারের মালিকানায় থাকায় অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে। এর মধ্যে নতুন নকশায় ৫ টাকার নোট বাজারে এল।কী বৈশিষ্ট্য?পাঁচ টাকার নতুন নোটের আকার ১১৭মিমি x ৬০ মিমি। নোটের সামনের পিঠের বামপাশে তারা মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। নোটের পেছনের পিঠে রয়েছে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি।নোটে জলছাপ হিসেবে 'রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ' এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ '5' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম' রয়েছে।নোটটিতে হালকা গোলাপী রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটের বামদিকে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নোটের কাগজের ভিতর প্রবিষ্ট যা আলোর বিপরীতে ধরলে উভয় দিক থেকে দেখা যায়।এছাড়া, নোটের সামনের অংশের নিচের গ্লিউইশ প্যাটার্নের উপরের অংশে মাইক্রোপয়েন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অসংখ্য 'BANGLADESH' মুদ্রিত রয়েছে।নতুন নকশার ৫ টাকার নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় সিইসির ‘কপালে ভাঁজ’

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।তিনি বলেছেন, “গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার, আমার কপালে ভাঁজ পড়েছে।”স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ইনডিপেডেন্ট হয়ে যেত, পার্টির মালিকানা থাকত না, ওনারশিপ থাকত না, দলে দলে গোলমাল হত না। এজন্য মনে করি, দলগুলোর উচিত হবে নিজেরা বসে ফায়সালা করা; আমাদের সহায়তা থাকবে।”সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিরেন সিইসি।তিনি বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, সব ধরনের নির্বাচনই ‘ভালো’ করতে হবে। ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর ‘রক্তপাতহীন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকারের ‘পূর্ণ সহায়তার’ কথা তুলে ধরেন সিইসি বলেন, “স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন-বিধি সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হয় না।“আমরাও দলের সহযোগিতা চাই। প্রয়োজনে আপনারা নিজেরা নিজেরা বসেন। একটা ফায়সালায় আসেন, আমরা রক্তপাত দেখতে চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই।”বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সহিংসতার যে ইতিহাস, সে কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, “অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়, একই পরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, খুব স্বল্প ব্যবধানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।”ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বর্শা নিয়ে মারামারির প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, “টেঁটা মেরে দুই পাড়ায় মারামারি হয়। এখন দুই পাড়ায় যদি প্রার্থী দাঁড়ায়, তাহলে কি হবে? কারবালা হয়ে যাবে। এ ধরনের সিচুয়েশনে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলায় যাবে না।”ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ভালোভাবে আয়োজনের পর স্থানীয় নির্বাচনও ‘সুন্দরভাবে’ করে নির্বাচনি সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চান এএমএম নাসির উদ্দিন।তিনি বলেন, “এক নির্বাচন ভালো হল। এটার মানে এ নয় যে বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময় ভালো হবে। আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। শুধু একটা নয়, সব নির্বাচন ভালো হবে। নির্বাচনের ভালো সংস্কৃতি যেন গড়তে পারি, এজন্য দলগুলো নিজেরাও বসেন। আমরা চাই, সত্যিকার অর্থে শতভাগ ভালো একটা স্থানীয় নির্বাচন।”সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার আভাস দিয়ে এসেছেন।এ বিষয়ে সিইসি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে এখনও ফাইনাল হয়নি। নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, আমাদের কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার তো চাই-ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের মধ্যে শুরু করবে। এটার জন্য সময় লাগে।”অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত কমিটি এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করে।ভোট নিয়ে জামায়াত-এনসিপির অসন্তোষত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়ে অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভোটে অনেক দল অংশ নিলেও মোটা দাগে এ নির্বাচন ‘পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না’।তিনি বলেন, “উপরে সব ঠিকঠাক, ভেতরে সদরঘাট। ভেতরে যে কাজটা হয়েছে, আগেও বলেছি সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? প্রক্রিয়ার ভেতরে সে স্বচ্ছতা মেনটেইন হয়নি।”এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, “আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিল যে ব্যালট পেপারে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিল যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে।“সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কীভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি।”এর ‘বিচার’ দেশেই হবে মন্তব্য করে নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এ নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, এর বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করেব। আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে হাত দেব, যাতে আপাদমস্তকে পরিবর্তন করব, ফাস্ট টার্গেট হবে এটা।”এনসিপি নেতার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে? ভোটগ্রহণই তো সুষ্ঠু ইলেকশন নয়। সুষ্ঠু ইলেকশনের জন্য ফেয়ার রেজাল্ট ডিক্লারেশন হতে হবে। এখানে স্বচ্ছতার বিষয় রয়েছে। কোয়ালিটিটিভ কিছু ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। কিন্তু মোটাদাগে সুষ্ঠু ইলেকশন আমরা বলতে পারছি না বলে দুঃখিত।”পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন উল্লেখ করেন।“নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী যেটা অনুভব করেছেন, যেটা বিশ্বাস করেছেন, তিনি সেটা বলেছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বক্তব্যে আহত হইনি।”

কোন পোস্ট নেই !
মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে

মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে

কোরবানি আল্লাহ তাআলার অন্যতম মহান নিদর্শন। এই ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং তাকওয়া। তাই কোরবানির পশু ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও সংযত ও শরিয়তসম্মতভাবে হওয়া উচিত।ইসলামে পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা বৈধ। রাসুল (সা.) নিজেও তাঁর বাহন ও পশুর নাম রেখেছেন। যেমন তাঁর উটের নাম ছিল ‘কাসওয়া’ ও ‘আদবা’, ঘোড়ার নাম ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ‘দুলদুল’।এ থেকে বোঝা যায়, আদর ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা শরিয়তসম্মত এবং এটি ইসলামি সংস্কৃতি বিরোধী নয়।যদিও পশুর নাম রাখা বৈধ, তবে কিছু ক্ষেত্রে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এর দুটি প্রধান কারণ হলো,১. মানুষের মর্যাদার বিষয়ইসলাম ধর্মে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন। (সুরা ইসরা, আয়াদ : ৭০)তাই মানুষের নামে পশুর নাম রাখা অনেক সময় অশোভন মনে হতে পারে এবং মানবমর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শঙ্কা তৈরি করে।২. বিদ্রুপ ও তাচ্ছিল্য থেকে বিরত থাকাঅনেক সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পরিচিত কারও নাম কোরবানির পশুকে দেওয়া হয়, বিদ্রুপ বা ঘৃণার উদ্দেশ্যে। ইসলাম এ ধরনের আচরণ কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।কোরআনে বলা হয়েছে, একে অপরকে মন্দ নামে ডাকা এবং বিদ্রুপ করা থেকে বিরত থাকতে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)আজকাল কোরবানির পশুর নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’-এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে এটি হাস্যরস বা ঘৃণার প্রকাশ মনে হলেও বাস্তবে এটি কোরবানির পবিত্রতা ও ইবাদতের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করে।কোরবানি একটি ইবাদত, যেখানে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেখানে বিদ্বেষ, ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক মনোভাব যুক্ত হলে ইবাদতের ইখলাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে মানুষের মর্যাদাহানিকর, বিদ্রুপমূলক বা বিতর্কিত নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং একনিষ্ঠতা।

কোন পোস্ট নেই !
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় সিইসির ‘কপালে ভাঁজ’

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় সিইসির ‘কপালে ভাঁজ’

আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।তিনি বলেছেন, “গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার, আমার কপালে ভাঁজ পড়েছে।”স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি ইনডিপেডেন্ট হয়ে যেত, পার্টির মালিকানা থাকত না, ওনারশিপ থাকত না, দলে দলে গোলমাল হত না। এজন্য মনে করি, দলগুলোর উচিত হবে নিজেরা বসে ফায়সালা করা; আমাদের সহায়তা থাকবে।”সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিরেন সিইসি।তিনি বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, সব ধরনের নির্বাচনই ‘ভালো’ করতে হবে। ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর ‘রক্তপাতহীন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তবর্তী সরকারের ‘পূর্ণ সহায়তার’ কথা তুলে ধরেন সিইসি বলেন, “স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন-বিধি সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হয় না।“আমরাও দলের সহযোগিতা চাই। প্রয়োজনে আপনারা নিজেরা নিজেরা বসেন। একটা ফায়সালায় আসেন, আমরা রক্তপাত দেখতে চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই।”বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সহিংসতার যে ইতিহাস, সে কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, “অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়, একই পরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, খুব স্বল্প ব্যবধানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।”ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বর্শা নিয়ে মারামারির প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, “টেঁটা মেরে দুই পাড়ায় মারামারি হয়। এখন দুই পাড়ায় যদি প্রার্থী দাঁড়ায়, তাহলে কি হবে? কারবালা হয়ে যাবে। এ ধরনের সিচুয়েশনে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত, স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের ঝামেলায় যাবে না।”ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ভালোভাবে আয়োজনের পর স্থানীয় নির্বাচনও ‘সুন্দরভাবে’ করে নির্বাচনি সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চান এএমএম নাসির উদ্দিন।তিনি বলেন, “এক নির্বাচন ভালো হল। এটার মানে এ নয় যে বাংলাদেশের নির্বাচন সবসময় ভালো হবে। আমরা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। শুধু একটা নয়, সব নির্বাচন ভালো হবে। নির্বাচনের ভালো সংস্কৃতি যেন গড়তে পারি, এজন্য দলগুলো নিজেরাও বসেন। আমরা চাই, সত্যিকার অর্থে শতভাগ ভালো একটা স্থানীয় নির্বাচন।”সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার আভাস দিয়ে এসেছেন।এ বিষয়ে সিইসি বলেন, “স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে এখনও ফাইনাল হয়নি। নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, আমাদের কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার তো চাই-ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের মধ্যে শুরু করবে। এটার জন্য সময় লাগে।”অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত কমিটি এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করে।ভোট নিয়ে জামায়াত-এনসিপির অসন্তোষত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নানা বিষয়ে অনুষ্ঠানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভোটে অনেক দল অংশ নিলেও মোটা দাগে এ নির্বাচন ‘পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না’।তিনি বলেন, “উপরে সব ঠিকঠাক, ভেতরে সদরঘাট। ভেতরে যে কাজটা হয়েছে, আগেও বলেছি সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? প্রক্রিয়ার ভেতরে সে স্বচ্ছতা মেনটেইন হয়নি।”এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, “আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিল যে ব্যালট পেপারে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিল যে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে।“সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কীভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি।”এর ‘বিচার’ দেশেই হবে মন্তব্য করে নাসীউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এ নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, এর বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করেব। আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে হাত দেব, যাতে আপাদমস্তকে পরিবর্তন করব, ফাস্ট টার্গেট হবে এটা।”এনসিপি নেতার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে? ভোটগ্রহণই তো সুষ্ঠু ইলেকশন নয়। সুষ্ঠু ইলেকশনের জন্য ফেয়ার রেজাল্ট ডিক্লারেশন হতে হবে। এখানে স্বচ্ছতার বিষয় রয়েছে। কোয়ালিটিটিভ কিছু ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। কিন্তু মোটাদাগে সুষ্ঠু ইলেকশন আমরা বলতে পারছি না বলে দুঃখিত।”পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি বলেন, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন উল্লেখ করেন।“নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী যেটা অনুভব করেছেন, যেটা বিশ্বাস করেছেন, তিনি সেটা বলেছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বক্তব্যে আহত হইনি।”

মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে

মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে

কোরবানি আল্লাহ তাআলার অন্যতম মহান নিদর্শন। এই ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং তাকওয়া। তাই কোরবানির পশু ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও সংযত ও শরিয়তসম্মতভাবে হওয়া উচিত।ইসলামে পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা বৈধ। রাসুল (সা.) নিজেও তাঁর বাহন ও পশুর নাম রেখেছেন। যেমন তাঁর উটের নাম ছিল ‘কাসওয়া’ ও ‘আদবা’, ঘোড়ার নাম ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ‘দুলদুল’।এ থেকে বোঝা যায়, আদর ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা শরিয়তসম্মত এবং এটি ইসলামি সংস্কৃতি বিরোধী নয়।যদিও পশুর নাম রাখা বৈধ, তবে কিছু ক্ষেত্রে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এর দুটি প্রধান কারণ হলো,১. মানুষের মর্যাদার বিষয়ইসলাম ধর্মে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন। (সুরা ইসরা, আয়াদ : ৭০)তাই মানুষের নামে পশুর নাম রাখা অনেক সময় অশোভন মনে হতে পারে এবং মানবমর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শঙ্কা তৈরি করে।২. বিদ্রুপ ও তাচ্ছিল্য থেকে বিরত থাকাঅনেক সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পরিচিত কারও নাম কোরবানির পশুকে দেওয়া হয়, বিদ্রুপ বা ঘৃণার উদ্দেশ্যে। ইসলাম এ ধরনের আচরণ কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।কোরআনে বলা হয়েছে, একে অপরকে মন্দ নামে ডাকা এবং বিদ্রুপ করা থেকে বিরত থাকতে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)আজকাল কোরবানির পশুর নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’-এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে এটি হাস্যরস বা ঘৃণার প্রকাশ মনে হলেও বাস্তবে এটি কোরবানির পবিত্রতা ও ইবাদতের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করে।কোরবানি একটি ইবাদত, যেখানে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেখানে বিদ্বেষ, ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক মনোভাব যুক্ত হলে ইবাদতের ইখলাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে মানুষের মর্যাদাহানিকর, বিদ্রুপমূলক বা বিতর্কিত নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং একনিষ্ঠতা।

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বাধ্যতামূলক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন চালু বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশনায় আরও বলা হয়, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রাউন্ড দিতে হবে।রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।