চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়ে পুলিশের মতবিনিময় সভা
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব ও এর মাধ্যমে সৃষ্ট বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সম্প্রতি চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের পর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশক্রমে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চিলাহাটি জামে উলুম ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।সভায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি, মাদক ও অনলাইন আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন চিলাহাটি জামে উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাকির হোসেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোররা যেন অপরাধী চক্রের প্রভাব, মাদক ও অনলাইন আসক্তির দিকে না ঝুঁকে পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক পরিবেশে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অপরাধে জড়িত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও জরুরি।”সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জাকির হোসেন পুলিশকে এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রেখে তাদের সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ডোমার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি ঘোষণা
নীলফামারী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অধীনে ডোমার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ১৫ সদস্যের নতুন যুব নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।আগামী দুই বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে দলনেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃআব্দুর রশিদ। এছাড়া উপ-দলনেতা-১ সাইদ বীন ইসলাম এবং উপ-দলনেতা-২ মোছাঃ মোৎমাইন্না দিপ্তী মনোনীত হয়েছেন।নবগঠিত কমিটি আগামী দুই বছর ডোমার উপজেলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক, দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— প্রশাসন, সংগঠন ও সদস্য সংগ্রহ বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে রয়েছেন মো. সিহাব প্রধান এবং উপ-প্রধান মো. সিয়াম হোসেন। প্রশিক্ষণ ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বিভাগে প্রধান মো. রিশাদ ইসলাম ও উপ-প্রধান মো. রিফাত ইসলাম।আইসিটি, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগে প্রধান মোছা. সারমিন জাহান মিথিলা ও উপ-প্রধান মো. ইয়াসিন ইসলাম,দুর্যোগ ও মানবিক সাড়া প্রদান বিভাগে প্রধান মো. রাবিন ইসলাম ও উপ-প্রধান অর্ঘ্য দিপ সাহা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রধান মিলন ইসলাম (হৃদয়) ও উপ-প্রধান মোছা. সুমাইয়া আক্তার আইনিন এবং তহবিল সংগ্রহ বিভাগে প্রধান মো. রেদোয়ানুল আমিন রিফাত ও উপ-প্রধান মো. মাসুদ রানা দায়িত্ব পেয়েছেন।নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ ডোমার উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নীলফামারীতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে, তীব্র দুর্গন্ধে চলছে চিকিৎসা
নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক মাসে হাসপাতালটিতে ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৯ জন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য, ময়লা পানি ও দুর্গন্ধ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গরমের কারণে অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি ব্যবহার না করায় হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের মধ্যেও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় ডেঙ্গু পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ড্রেনের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত স্থানেও আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বর্জ্য পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।ডেঙ্গু নারী ওয়ার্ডের আশপাশেও বিভিন্ন স্থানে ময়লা পানি ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীদের অভিযোগ, এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। অসুস্থ অবস্থায় এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে নীলফামারীর বাড়িতে ফেরেন আনোয়ারা বেগম। জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের আশপাশে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসে। অনেক সময় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত দিয়ে রাখতে হয়।রোগীর স্বজন সালমা খাতুন বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু রুমে শুয়ে থাকলেও বাইরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ভেতরে আসে। ডেঙ্গু রোগীদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।”নুরনাহার বেগম নামের আরেক স্বজন বলেন, তাঁর ভাতিজা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। গরমের কারণে মশারি টাঙানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেট ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।রোগী মাসুদ রানা বলেন, “ওয়ার্ডের সামনে ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। সেখানে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। আবার রুমে ফ্যান কম থাকায় গরমও বেশি। এ কারণে মশারি টাঙানো হয়নি।”হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রোগীদের মশারি ব্যবহারের জন্যও বারবার বলা হচ্ছে।নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের দেখভাল করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতাল পরিষ্কার করা হয়। রোগীদের বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা মশারি টাঙান না। এতে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।”রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শুধু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই নয়, ওয়ার্ড ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রেন ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং রোগীদের মশারি ব্যবহারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।