মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম, ইসলাম কী বলে
কোরবানি আল্লাহ তাআলার অন্যতম মহান নিদর্শন। এই ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং তাকওয়া। তাই কোরবানির পশু ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও সংযত ও শরিয়তসম্মতভাবে হওয়া উচিত।ইসলামে পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা বৈধ। রাসুল (সা.) নিজেও তাঁর বাহন ও পশুর নাম রেখেছেন। যেমন তাঁর উটের নাম ছিল ‘কাসওয়া’ ও ‘আদবা’, ঘোড়ার নাম ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ‘দুলদুল’।এ থেকে বোঝা যায়, আদর ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা শরিয়তসম্মত এবং এটি ইসলামি সংস্কৃতি বিরোধী নয়।যদিও পশুর নাম রাখা বৈধ, তবে কিছু ক্ষেত্রে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এর দুটি প্রধান কারণ হলো,১. মানুষের মর্যাদার বিষয়ইসলাম ধর্মে মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন। (সুরা ইসরা, আয়াদ : ৭০)তাই মানুষের নামে পশুর নাম রাখা অনেক সময় অশোভন মনে হতে পারে এবং মানবমর্যাদার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শঙ্কা তৈরি করে।২. বিদ্রুপ ও তাচ্ছিল্য থেকে বিরত থাকাঅনেক সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পরিচিত কারও নাম কোরবানির পশুকে দেওয়া হয়, বিদ্রুপ বা ঘৃণার উদ্দেশ্যে। ইসলাম এ ধরনের আচরণ কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।কোরআনে বলা হয়েছে, একে অপরকে মন্দ নামে ডাকা এবং বিদ্রুপ করা থেকে বিরত থাকতে। (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)আজকাল কোরবানির পশুর নাম হিসেবে ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’-এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাহ্যিকভাবে এটি হাস্যরস বা ঘৃণার প্রকাশ মনে হলেও বাস্তবে এটি কোরবানির পবিত্রতা ও ইবাদতের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করে।কোরবানি একটি ইবাদত, যেখানে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেখানে বিদ্বেষ, ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক মনোভাব যুক্ত হলে ইবাদতের ইখলাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোরবানির পশুর সুন্দর নাম রাখা বৈধ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে মানুষের মর্যাদাহানিকর, বিদ্রুপমূলক বা বিতর্কিত নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং একনিষ্ঠতা।
সৈয়দপুরে পুকুরে ডুবে ডোমারের যুবকের মৃত্যু
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে সৈয়দপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্র মারা গেছে। শনিবার (২৩মে) দুপুরে কলেজ সংলগ্ন মাস্টারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত ছাত্রের নাম রাফিদ রহমান কাব্য (১৮)। সে ওই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।কাব্যের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিকনমাটি এলাকার মোজাপাড়ায়। সে ওই গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান কাব্য শহরের নীচুকলোনীতে মা শাম্মী আক্তারের সাথে একটি ভাড়া বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো।ঘটনার দিন তারা ৭ বন্ধু (ক্লাসমেট) মিলে কলেজের মাঠে ফুটবল খেলার পর ওই পুকুরে গোসল করতে যায়। এসময় কাব্য সাঁতরে পুকুরের মাঝামাঝি যায়। কিন্তু ফেরার সময় হঠাৎ ডুবে গিয়ে অনেক গভীরে তলিয়ে যায়।বন্ধুরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে পাশেই একটা বিল্ডিংয়ে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের ডেকে আনে। তারা এসে তাকে অজ্ঞান ও নিথর অবস্থায় উদ্ধার করার পর দ্রুত স্থানীয় সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডোমারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে নীলফামারীর চিলাহাটির আমবাড়ি কোরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। দূর-দূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা হাটে ভিড় করছেন। ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে হাটের বিশাল পরিসর ও মানুষের উপচেপড়া উপস্থিতি ফুটে উঠেছে।