আজকের ডোমার
সর্বশেষ

চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়ে পুলিশের মতবিনিময় সভা

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব ও এর মাধ্যমে সৃষ্ট বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সম্প্রতি চিলাহাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের পর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশক্রমে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চিলাহাটি জামে উলুম ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।সভায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক অপরাধ, পারিবারিক অশান্তি, মাদক ও অনলাইন আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন চিলাহাটি জামে উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাকির হোসেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোররা যেন অপরাধী চক্রের প্রভাব, মাদক ও অনলাইন আসক্তির দিকে না ঝুঁকে পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক পরিবেশে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অপরাধে জড়িত কিশোরদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও জরুরি।”সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জাকির হোসেন পুলিশকে এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের কিশোর গ্যাংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রেখে তাদের সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ডোমার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি ঘোষণা

নীলফামারী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অধীনে ডোমার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ১৫ সদস্যের নতুন যুব নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।আগামী দুই বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে দলনেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃআব্দুর রশিদ। এছাড়া উপ-দলনেতা-১ সাইদ বীন ইসলাম এবং উপ-দলনেতা-২ মোছাঃ মোৎমাইন্না দিপ্তী মনোনীত হয়েছেন।নবগঠিত কমিটি আগামী দুই বছর ডোমার উপজেলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক, দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— প্রশাসন, সংগঠন ও সদস্য সংগ্রহ বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে রয়েছেন মো. সিহাব প্রধান এবং উপ-প্রধান মো. সিয়াম হোসেন। প্রশিক্ষণ ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বিভাগে প্রধান মো. রিশাদ ইসলাম ও উপ-প্রধান মো. রিফাত ইসলাম।আইসিটি, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগে প্রধান মোছা. সারমিন জাহান মিথিলা ও উপ-প্রধান মো. ইয়াসিন ইসলাম,দুর্যোগ ও মানবিক সাড়া প্রদান বিভাগে প্রধান মো. রাবিন ইসলাম ও উপ-প্রধান অর্ঘ্য দিপ সাহা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রধান মিলন ইসলাম (হৃদয়) ও উপ-প্রধান মোছা. সুমাইয়া আক্তার আইনিন এবং তহবিল সংগ্রহ বিভাগে প্রধান মো. রেদোয়ানুল আমিন রিফাত ও উপ-প্রধান মো. মাসুদ রানা দায়িত্ব পেয়েছেন।নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ ডোমার উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ডোমার উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি ঘোষণা

নীলফামারীতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে, তীব্র দুর্গন্ধে চলছে চিকিৎসা

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক মাসে হাসপাতালটিতে ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৯ জন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য, ময়লা পানি ও দুর্গন্ধ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গরমের কারণে অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি ব্যবহার না করায় হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের মধ্যেও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় ডেঙ্গু পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ড্রেনের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত স্থানেও আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বর্জ্য পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।ডেঙ্গু নারী ওয়ার্ডের আশপাশেও বিভিন্ন স্থানে ময়লা পানি ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীদের অভিযোগ, এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। অসুস্থ অবস্থায় এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে নীলফামারীর বাড়িতে ফেরেন আনোয়ারা বেগম। জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের আশপাশে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসে। অনেক সময় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত দিয়ে রাখতে হয়।রোগীর স্বজন সালমা খাতুন বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু রুমে শুয়ে থাকলেও বাইরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ভেতরে আসে। ডেঙ্গু রোগীদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।”নুরনাহার বেগম নামের আরেক স্বজন বলেন, তাঁর ভাতিজা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। গরমের কারণে মশারি টাঙানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেট ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।রোগী মাসুদ রানা বলেন, “ওয়ার্ডের সামনে ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। সেখানে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। আবার রুমে ফ্যান কম থাকায় গরমও বেশি। এ কারণে মশারি টাঙানো হয়নি।”হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রোগীদের মশারি ব্যবহারের জন্যও বারবার বলা হচ্ছে।নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের দেখভাল করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতাল পরিষ্কার করা হয়। রোগীদের বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা মশারি টাঙান না। এতে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।”রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শুধু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই নয়, ওয়ার্ড ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রেন ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং রোগীদের মশারি ব্যবহারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

নীলফামারীতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে, তীব্র দুর্গন্ধে চলছে চিকিৎসা
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
কোন পোস্ট নেই !
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও দপ্তরির বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও দপ্তরির বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ

নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম পঞ্চপুকুর জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. সুমন রানার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ অনুমতি ছাড়া অপসারণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।অভিযোগকারীদের দাবি, সুমন রানা গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত নেই। তাঁর পরিবর্তে বিদ্যালয়ের কিছু দায়িত্ব শিক্ষকরা পালন করছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন কি না, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এ ছাড়া তাঁর পরিবর্তে তাঁর মাকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে অংশ নিতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ এবং আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ মারা যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সেটি অপসারণ ও বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে গাছটির আনুমানিক মূল্য ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য রাশিদুল ইসলাম বলেন, “সুমন রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোবাদ আলী কায়কোবাদ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।”নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জশিজুল আলম মন্ডল বলেন, “অভিযোগের কোনো অনুলিপি এখনো পাইনি। অনুলিপি পেলে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অভিযোগের বিষয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. সুমন রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।

মার্কিন নিরাপত্তায় হরমুজ পাড়ির চেষ্টাকারী দুই জাহাজে ইরানের হামলা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানি বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, নির্দেশনা না মানায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর আরও চারটি ট্যাংকার দ্রুত তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে আগের অবস্থানে ফিরে যায়। ইরানি বাহিনীর দাবি, এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ঘোষিত একটি রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিয়ম অমান্যকারী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে আরও চারটি ট্যাংকার দ্রুত তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যায়।’ এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। অলঙ্কার বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার কেনাবেচা বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মাবলী বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানোর হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডোমারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ চন্দখানা বোদাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, নীলফামারী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১ নম্বর ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম।এ সময় কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান আলি রিমুন, কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জবাইদুল আলম শাহ জুয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানান।বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

মাদক রোধে খেলাধুলাকেই হাতিয়ার করতে চান জয়নাল

মাদক রোধে খেলাধুলাকেই হাতিয়ার করতে চান জয়নাল

মোবাইল ফোন ও অনলাইন আসক্তির পাশাপাশি মাদকের ঝুঁকিও বাড়ছে তরুণদের মধ্যে। মাঠ ও খেলার পরিবেশ থেকে দূরে সরে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে মোবাইলের পর্দায়। অন্যদিকে মাদকের সহজলভ্যতা ও নানা সামাজিক কারণে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নেশায়। এ পরিস্থিতিতে খেলাধুলাকে মাদক ও অনলাইন আসক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী মো. জয়নাল আবেদীন।তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, কিশোর-তরুণদের মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তাদের সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করা।জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে এখনই আমাদের সবাইকে নতুন করে শপথ নিতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে খেলাধুলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক ও অনলাইন আসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে বের করে আনতে হবে।’তিনি বলেন, শুধু আধুনিক খেলাধুলা নয়, হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও ফিরিয়ে আনতে হবে। এসব খেলার আয়োজন শিশু-কিশোরদের মাঠের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রামীণ সামাজিক বন্ধনও জোরদার করবে।সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ক্লাব, সমিতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, উন্নয়নকর্মী, সমবায়কর্মী, ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। মাদক বিক্রির পথ বন্ধ না করে শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।’তিরি বলেন, মাদকের প্রভাব এখন আর শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর কারণে ভাঙছে পরিবারও। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মা-বাবার ওপর সন্তানের নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনাও প্রকাশিত হচ্ছে। আবার মাদকাসক্ত সন্তানকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার আশায় অসহায় মা-বাবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মা-বাবার এমন কঠিন সিদ্ধান্ত মাদকের সামাজিক বিস্তারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। পরিবারে মাদকাসক্ত একজন সদস্যের কারণে অন্য সদস্যদের জীবনও অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে।জয়নাল আবেদিন আরোও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশে সরকারি আইন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের সরবরাহ ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মতো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-তে মাদকের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা কমানো এবং অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধের আইনি কাঠামো রয়েছে।তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, পরিবারে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। একসময় গ্রামবাংলার মাঠে নিয়মিত হতো হাডুডু, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, কানামাছি, লাঠিখেলাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খেলা। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে এসব খেলার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। এর সঙ্গে কমেছে মাঠে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও।জয়নাল আবেদীনের উদ্যোগ হলো—ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাও ফিরিয়ে আনা। তাঁর মতে, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হলে তরুণদের অবসর সময় ইতিবাচক কাজে ব্যয় হবে। এতে মাদক ও অনলাইন আসক্তির ঝুঁকিও কমবে।তিনি বলেন, ‘একটি মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শুধু সচেতনতার কথা বললে হবে না, তরুণদের সামনে বিকল্পও তৈরি করতে হবে। খেলার মাঠ সেই বিকল্প হতে পারে। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।’সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত করা গেলে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য মাঠ সংরক্ষণ, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্থানীয় ক্লাবগুলোকে সক্রিয় করা এবং তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি।মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের হাতে বই ও ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দিয়ে মাঠমুখী করার উদ্যোগই হতে পারে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ার অন্যতম পথ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছোট্ট এক আমলে মাফ হয় ১০০০ গুনাহ

ছোট্ট এক আমলে মাফ হয় ১০০০ গুনাহ

মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। ১০০০ নেকি বা গুনাহমাফের আমলহজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) একদা সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকা একজন প্রশ্ন করল, কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে অথবা তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৮) সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফঅন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫) বড় গুনাহে তাওবার আবশ্যকতাইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, জিকিরের মাধ্যমে পাপ মোচনের এই সুসংবাদ মূলত ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ থেকে  মুক্তি পেতে হলে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে তাওবা করতে হবে। আর পাপটি যদি মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) সংক্রান্ত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা মেটানো বা তাঁর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন এই আমল গুরুত্বপূর্ণব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইবাদত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। চলতে-ফিরতে, কর্মস্থলে কিংবা যাতায়াতের সময়ও। এতে একদিকে যেমন সওয়াব অর্জন হয়, অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ দৃঢ় হয়। ইখলাস বা আন্তরিকতাইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কেবল তোতাপাখির মতো মুখে উচ্চারণ না করে, মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে লালন করে জিকির করলে তা দ্রুত কবুল হয় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডোমারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ডোমারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ চন্দখানা বোদাপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, নীলফামারী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১ নম্বর ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম।এ সময় কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান আলি রিমুন, কেতকীবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জবাইদুল আলম শাহ জুয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানান।বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’

রাশেদ খাঁনকে দুইবার কল দিয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন ‘সব ফাঁস করে দেবো’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে দুইবার ফোন করে ‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন রাশেদ খাঁন। স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হঠাৎ আমাকে কল করে বললো, আমি যাতে তার বিরুদ্ধে আর না বলি, সেও আমার বিরুদ্ধে বলবে না। আমি তাকে বললাম, তুমি প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী, কন্যা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করলে, আমি বিষয়টি ভেবে দেখবো। সে উত্তরে বললো, সে আজকে এ বিষয়ে মিডিয়ায় বলেছে, আর এসব করবে না।’ তিনি লিখেছেন, ‘এরপর রাতে আবার কল করে বললো, আপনি তো আমার বিরুদ্ধে বলেছেন, আমি কিন্তু সব বলে দেবো, আমাদের (নাহিদ-আসিফ) কাছে এসে আপনি ৫ লাখ করে টাকা নিয়ে যেতেন! আমি সব ফাঁস করে দেবো। আমি বললাম, যা আছে সব ফাঁস করে দাও! এরপর বললো, আপনি ফ্লাট কিনেছেন, সব ডকুমেন্টস আছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে গিয়েছেন! উত্তরে আমি বললাম, আমার কোনও ফ্লাট নেই, আর কোনোদিন নাহিদ- আসিফ থেকে এক টাকাও নিইনি! তোমার কাছে আমার সম্পর্কে যা তথ্য আছে, সব ফাঁস করে দাও!’ রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ‘গতকাল তার কল পেয়ে আমি ভেবেছিলাম, ছেলেটি হয়তো তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকেই দেখলাম, সে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে গেছে। আবারও আবোলতাবোল বকা শুরু করেছে।’

ছোট্ট এক আমলে মাফ হয় ১০০০ গুনাহ

ছোট্ট এক আমলে মাফ হয় ১০০০ গুনাহ

মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন। ১০০০ নেকি বা গুনাহমাফের আমলহজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) একদা সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকা একজন প্রশ্ন করল, কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে অথবা তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৮) সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফঅন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫) বড় গুনাহে তাওবার আবশ্যকতাইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, জিকিরের মাধ্যমে পাপ মোচনের এই সুসংবাদ মূলত ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ থেকে  মুক্তি পেতে হলে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে তাওবা করতে হবে। আর পাপটি যদি মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) সংক্রান্ত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা মেটানো বা তাঁর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন এই আমল গুরুত্বপূর্ণব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইবাদত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। চলতে-ফিরতে, কর্মস্থলে কিংবা যাতায়াতের সময়ও। এতে একদিকে যেমন সওয়াব অর্জন হয়, অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ দৃঢ় হয়। ইখলাস বা আন্তরিকতাইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কেবল তোতাপাখির মতো মুখে উচ্চারণ না করে, মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে লালন করে জিকির করলে তা দ্রুত কবুল হয় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

আগাম আলুতে বড় বিনিয়োগ, ভালো দামের আশায় ঝুঁকি নিচ্ছেন কৃষকেরা

আগাম আলুতে বড় বিনিয়োগ, ভালো দামের আশায় ঝুঁকি নিচ্ছেন কৃষকেরা

আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা। শীত আসার আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ার আশায় বিনা-৭, গ্রানুলা, সানশাইন, কারেজসহ বিভিন্ন জাতের আলু রোপণ করছেন তাঁরা। তবে জমি ইজারা, বীজ, সার, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে শুরুতেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সার সংকট ও সরকারি ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। ফলে বাড়তি দামে সার কিনে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ায় আগাম আলু চাষে ঝুঁকিও বাড়ছে।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে নতুন আলুর দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। এ কারণে বাড়তি লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ঝুঁকি নিচ্ছেন তাঁরা। গত মৌসুমে আলুর বাজারদর কম থাকায় অনেকে লোকসানে পড়লেও এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে সার, বীজ, শ্রমিক ও জমির ইজারা খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো বাজারদর না পেলে বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন হতে পারে।সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানি ও কচুকাটা ইউনিয়নেও চলছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি। কোথাও রোপণ শেষ হয়েছে, কোথাও চলছে বীজ বাছাই ও জমি প্রস্তুতের কাজ। এতে মাঠে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা।বাহাগিলী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম দুই বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে আগাম আলু চাষ করছেন। নিজের জমি না থাকায় জমির ভাড়ার পাশাপাশি বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের পেছনে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁর। তাঁর আশা, ভালো ফলন ও বাজারদর পেলে বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসার পাশাপাশি লাভ হবে।একই ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক মিনহাজুল ইসলাম ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজার ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি।সার সংকটের বিষয়ে চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক সাদিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার ডিএপি ও পটাশ সার নিতে গেলে কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় ডিলারের প্রতিনিধি তাঁকে সার দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর ভাষ্য, এ সময় কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়া সার দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পরে কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে জানান, পরিচিত কৃষক হলে সার দেওয়া সম্ভব হলেও তিনি অপরিচিত হওয়ায় সার দেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলার পয়েন্টে চাহিদার তুলনায় সার সরবরাহ কম থাকায় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেককে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে। এতে আলু চাষের শুরুতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।রণচণ্ডী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, গত মৌসুমে আগাম আলু তুলে মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। এতে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার ৪০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন তিনি।তবে আগাম আলু চাষে সবার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। উত্তর দুরাকুটি গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন বাবু জানান, গত দুই বছরে আলু চাষ করে লোকসানে পড়েছেন তিনি। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও আগাম আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তাঁর।কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার কৃষক মনছুর আলী দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই এলাকায় আগাম আলু চাষ হয়। হিমাগার থেকে সংরক্ষিত আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করায় খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ভালো দাম পেলে লাভ হবে।যাদুরহাট এলাকার কৃষক মহসিন আলী পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এলাকার ডাঙ্গা জমি উঁচু ও বালুমিশ্রিত হওয়ায় পানি জমে থাকার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। এ কারণে আগেভাগে আলু চাষ করে বাড়তি লাভের চেষ্টা করছেন তিনি।কৃষকদের মতে, আগাম আলু চাষে আবহাওয়া ও বাজারদর—দুটিই বড় ঝুঁকি। অতিরিক্ত বৃষ্টি, রোগবালাই কিংবা বাজারে দরপতন হলে উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হতে পারে। এর সঙ্গে সারসহ কৃষি উপকরণের দাম ও প্রাপ্যতার অনিশ্চয়তা যোগ হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ইজারা নেওয়া জমিতে চাষ করা কৃষকদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ উৎপাদন খরচের সঙ্গে জমির ভাড়াও যোগ হচ্ছে।আলু চাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শ্রমবাজারেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। কৃষক ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কিশোরগঞ্জে পুরুষ শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকরা ৩৫০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন ও বাজারদর পেয়ে কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করেন তিনি।নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলুর লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আলু চাষ কিছুটা কমতে পারে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিচু জমিতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম আলুর উৎপাদন অনেকটাই নির্ভর করে আবহাওয়া, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ফলন এবং মৌসুমের শুরুর বাজারদরের ওপর। ফলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম হলে কৃষকের লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।

নীলফামারীতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে, তীব্র দুর্গন্ধে চলছে চিকিৎসা

নীলফামারীতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছে, তীব্র দুর্গন্ধে চলছে চিকিৎসা

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক মাসে হাসপাতালটিতে ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৯ জন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য, ময়লা পানি ও দুর্গন্ধ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গরমের কারণে অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি ব্যবহার না করায় হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের মধ্যেও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় ডেঙ্গু পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ড্রেনের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত স্থানেও আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বর্জ্য পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।ডেঙ্গু নারী ওয়ার্ডের আশপাশেও বিভিন্ন স্থানে ময়লা পানি ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীদের অভিযোগ, এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। অসুস্থ অবস্থায় এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে নীলফামারীর বাড়িতে ফেরেন আনোয়ারা বেগম। জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের আশপাশে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসে। অনেক সময় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত দিয়ে রাখতে হয়।রোগীর স্বজন সালমা খাতুন বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু রুমে শুয়ে থাকলেও বাইরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ভেতরে আসে। ডেঙ্গু রোগীদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।”নুরনাহার বেগম নামের আরেক স্বজন বলেন, তাঁর ভাতিজা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। গরমের কারণে মশারি টাঙানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেট ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।রোগী মাসুদ রানা বলেন, “ওয়ার্ডের সামনে ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। সেখানে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। আবার রুমে ফ্যান কম থাকায় গরমও বেশি। এ কারণে মশারি টাঙানো হয়নি।”হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রোগীদের মশারি ব্যবহারের জন্যও বারবার বলা হচ্ছে।নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের দেখভাল করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতাল পরিষ্কার করা হয়। রোগীদের বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা মশারি টাঙান না। এতে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।”রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শুধু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই নয়, ওয়ার্ড ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রেন ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং রোগীদের মশারি ব্যবহারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।