আজকের ডোমার

সারাদেশ

১১৫৮ নম্বর পেয়েও দুশ্চিন্তা, মেধাবী গোবিন্দের পাশে জয়নাল আবেদীন

১১৫৮ নম্বর পেয়েও দুশ্চিন্তা, মেধাবী গোবিন্দের পাশে জয়নাল আবেদীন
প্রতিবেদক

এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর পেয়েছে গোবিন্দ রায়। জিপিএ-৫ পাওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা বইলেও উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান গোবিন্দের সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা দূর করতে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি গোবিন্দের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

গোবিন্দ রায় পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি তরনীবাড়ী বন্দরপাড়া গ্রামে। বাবা চন্দ্র কিশোর রায় ও মা ময়না রানী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেত এবং শিক্ষকদের দেওয়া পড়া মনোযোগ দিয়ে করত। পারিবারিক অভাব-অনটন তার পড়াশোনার আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হৃষিকেশ রায় বলেন, ‘গোবিন্দ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এত ভালো নম্বর পেয়ে ফলাফল করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। নিয়মিত স্কুলে আসত, পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহও ছিল অনেক বেশি। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এবং ভালো সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে গোবিন্দ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোবিন্দের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। শুধু ফলাফলের সময় প্রশংসা নয়, তাদের উচ্চশিক্ষার পথও সহজ করে দিতে হবে। অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়।’

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে গোবিন্দ রায় বলে, ‘আমি আরও অনেক দূর পড়াশোনা করতে চাই। ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ভবিষ্যতে এমন কিছু করতে চাই, যাতে আমার পরিবারকে ভালো রাখতে পারি এবং মানুষের উপকারে আসতে পারি।’

সে আরও বলে, ‘আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা হয়। যারা আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের সহযোগিতা আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে তাঁদের এই সহযোগিতার মর্যাদা রাখতে চাই।’

গোবিন্দের বাবা চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহী। সংসারে অভাব থাকলেও সে নিজের মতো করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। ভালো ফল করবে—এটা আশা করেছিলাম। কিন্তু ১ হাজার ১৫৩ নম্বর পেয়ে এত ভালো ফল করবে, তা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’

তিনি বলেন, ‘ছেলেকে আরও পড়াতে চাই। কিন্তু সংসারে অভাব থাকায় সামনে তার পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব, সেটি নিয়ে চিন্তা ছিল। জয়নাল আবেদীন সাহেব আমার ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সহযোগিতায় আমরা অনেকটা সাহস পেয়েছি।’

চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া—ছেলের পড়াশোনা যেন টাকার অভাবে বন্ধ না হয়। সে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। সমাজের আরও সামর্থ্যবান মানুষ যদি গোবিন্দের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’

সহায়তা প্রদানকারী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গোবিন্দের ফলাফল ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা জানতে পেরে আমি তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। একটি মেধাবী ছেলে শুধু অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রত্যেকেরই উচিত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। গোবিন্দের মধ্যে আমি ভালো কিছু করার সম্ভাবনা দেখেছি। আমার সহযোগিতা যদি তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সামান্যও ভূমিকা রাখে, সেটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, ‘গোবিন্দ যেন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়—এটাই আমার প্রত্যাশা। সুযোগ পেলে সে আরও ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গোবিন্দের পাশে দাঁড়ানোর সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিন্দ্র নাথ রায়, বিধান চন্দ্র রায়, ধীমান রায়, জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয়রা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। গোবিন্দের পাশে জয়নাল আবেদীনের মতো মানুষ এগিয়ে এলে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি সমাজে মানবিকতার চর্চাও বাড়বে।

এসএসসিতে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর পাওয়া গোবিন্দ এখন নতুন স্বপ্ন দেখছে। তার মেধা, অধ্যবসায় ও মানুষের সহযোগিতা মিলিয়ে সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের ডোমার

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


১১৫৮ নম্বর পেয়েও দুশ্চিন্তা, মেধাবী গোবিন্দের পাশে জয়নাল আবেদীন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর পেয়েছে গোবিন্দ রায়। জিপিএ-৫ পাওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা বইলেও উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান গোবিন্দের সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা দূর করতে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি গোবিন্দের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

গোবিন্দ রায় পলাশবাড়ী পরশমণি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি তরনীবাড়ী বন্দরপাড়া গ্রামে। বাবা চন্দ্র কিশোর রায় ও মা ময়না রানী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেত এবং শিক্ষকদের দেওয়া পড়া মনোযোগ দিয়ে করত। পারিবারিক অভাব-অনটন তার পড়াশোনার আগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হৃষিকেশ রায় বলেন, ‘গোবিন্দ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এত ভালো নম্বর পেয়ে ফলাফল করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। নিয়মিত স্কুলে আসত, পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহও ছিল অনেক বেশি। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এবং ভালো সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে গোবিন্দ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোবিন্দের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। শুধু ফলাফলের সময় প্রশংসা নয়, তাদের উচ্চশিক্ষার পথও সহজ করে দিতে হবে। অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়।’

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে গোবিন্দ রায় বলে, ‘আমি আরও অনেক দূর পড়াশোনা করতে চাই। ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ভবিষ্যতে এমন কিছু করতে চাই, যাতে আমার পরিবারকে ভালো রাখতে পারি এবং মানুষের উপকারে আসতে পারি।’

সে আরও বলে, ‘আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা হয়। যারা আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের সহযোগিতা আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে তাঁদের এই সহযোগিতার মর্যাদা রাখতে চাই।’

গোবিন্দের বাবা চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহী। সংসারে অভাব থাকলেও সে নিজের মতো করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। ভালো ফল করবে—এটা আশা করেছিলাম। কিন্তু ১ হাজার ১৫৩ নম্বর পেয়ে এত ভালো ফল করবে, তা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’

তিনি বলেন, ‘ছেলেকে আরও পড়াতে চাই। কিন্তু সংসারে অভাব থাকায় সামনে তার পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব, সেটি নিয়ে চিন্তা ছিল। জয়নাল আবেদীন সাহেব আমার ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সহযোগিতায় আমরা অনেকটা সাহস পেয়েছি।’

চন্দ্র কিশোর রায় বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া—ছেলের পড়াশোনা যেন টাকার অভাবে বন্ধ না হয়। সে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। সমাজের আরও সামর্থ্যবান মানুষ যদি গোবিন্দের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।’

সহায়তা প্রদানকারী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গোবিন্দের ফলাফল ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা জানতে পেরে আমি তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। একটি মেধাবী ছেলে শুধু অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রত্যেকেরই উচিত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। গোবিন্দের মধ্যে আমি ভালো কিছু করার সম্ভাবনা দেখেছি। আমার সহযোগিতা যদি তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সামান্যও ভূমিকা রাখে, সেটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, ‘গোবিন্দ যেন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়—এটাই আমার প্রত্যাশা। সুযোগ পেলে সে আরও ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

গোবিন্দের পাশে দাঁড়ানোর সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিন্দ্র নাথ রায়, বিধান চন্দ্র রায়, ধীমান রায়, জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয়রা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। গোবিন্দের পাশে জয়নাল আবেদীনের মতো মানুষ এগিয়ে এলে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি সমাজে মানবিকতার চর্চাও বাড়বে।

এসএসসিতে ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ নম্বর পাওয়া গোবিন্দ এখন নতুন স্বপ্ন দেখছে। তার মেধা, অধ্যবসায় ও মানুষের সহযোগিতা মিলিয়ে সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।


আজকের ডোমার


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত আজকের ডোমার