নীলফামারীতে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এককালীন বিশেষ আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নীলফামারী আল-হেলাল একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫ জন সুবিধাভোগীর হাতে এ অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ। প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক দেওয়া হয়।
অনুদান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন প্রতিবন্ধী, অসহায় ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারী-পুরুষ। সরকারি সহায়তার এ অর্থ তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং সাময়িক আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহার আগে আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অনুদান অনুমোদন করা হয়। পরে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে চেক হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
চেক হাতে পেয়ে কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, অভাবের সংসারে সামান্য অর্থও তাঁদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি এ সহায়তা তাঁদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে কাজে আসবে। তাঁরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলা আমীর সাইয়িদ আবু হানিফা শাহ। এ ছাড়া স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ বলেন, ‘সমাজের অসহায়, দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদেরই অংশ। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই অনুদান হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, তবে একজন অসহায় মানুষের জন্য এটি প্রয়োজনের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও সরকারের পাশাপাশি এসব মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।’
সংসদ সদস্য বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ করতে ভবিষ্যতে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়রা বলেন, এককালীন আর্থিক সহায়তা অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না করলেও সংকটের সময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা নিয়মিত ও সহজলভ্য করা গেলে তাঁদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক অনুদান নয়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীতে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এককালীন বিশেষ আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নীলফামারী আল-হেলাল একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫ জন সুবিধাভোগীর হাতে এ অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ। প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক দেওয়া হয়।
অনুদান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন প্রতিবন্ধী, অসহায় ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারী-পুরুষ। সরকারি সহায়তার এ অর্থ তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং সাময়িক আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহার আগে আর্থিক সহায়তার জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অনুদান অনুমোদন করা হয়। পরে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে চেক হস্তান্তরের জন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
চেক হাতে পেয়ে কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, অভাবের সংসারে সামান্য অর্থও তাঁদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি এ সহায়তা তাঁদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে কাজে আসবে। তাঁরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী সদর উপজেলা আমীর সাইয়িদ আবু হানিফা শাহ। এ ছাড়া স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ বলেন, ‘সমাজের অসহায়, দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ আমাদেরই অংশ। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই অনুদান হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, তবে একজন অসহায় মানুষের জন্য এটি প্রয়োজনের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও সরকারের পাশাপাশি এসব মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।’
সংসদ সদস্য বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ করতে ভবিষ্যতে সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়রা বলেন, এককালীন আর্থিক সহায়তা অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না করলেও সংকটের সময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও কর্মক্ষমতা হারানো মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা নিয়মিত ও সহজলভ্য করা গেলে তাঁদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক অনুদান নয়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন