‘এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না’—এ লক্ষ্য সামনে রেখে নীলফামারীর ডোমারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে শুরু হয়েছে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন। খামারের দীর্ঘদিন পতিত পড়ে থাকা জমিতে এবার ২১১ একরজুড়ে চাষ হয়েছে খরাসহিষ্ণু ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান সোনালি রূপ ধারণ করেছে। কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও মাড়াই ও বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি।
খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, চলতি মৌসুমে এসব জমি থেকে প্রায় ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বীজ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়—এমন আরও ৬০ থেকে ৭০ টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদিত ধান ও বীজের বাজারমূল্য তিন কোটি টাকার বেশি হতে পারে। উৎপাদিত ভিত্তি বীজ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার একর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অবস্থিত ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে সরেজমিন দেখা যায়, খামারের বিস্তীর্ণ মাঠে পাকা ধানের ঢেউ। কোথাও শ্রমিকরা ধান কাটছেন, কোথাও মেশিনে চলছে মাড়াই। আবার কোনো কোনো জমিতে ধান কেটে পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাঠজুড়ে ব্যস্ততা, আর বাতাসে দুলছে পাকা আউশ ধানের শীষ।
বিএডিসির এই বিশেষায়িত খামারের আয়তন প্রায় ৬৫০ একর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি প্রায় ৬০১ একর। মূলত ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনের জন্যই খামারটি প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছর আলু উৎপাদনের পর সীমিত পরিসরে গম ও কিছু জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করা হলেও বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় পতিত পড়ে থাকত।
এ অবস্থার পরিবর্তনে কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে আলুর পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয় খামার কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সাল থেকে ধাপে ধাপে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে খামার থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আউশ বীজ উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি মৌসুমে ডোমার ও দেবীগঞ্জ খামার মিলিয়ে আবাদযোগ্য প্রায় ৬০১ একর জমির বিভিন্ন অংশে আউশ, ধৈঞ্চা ও আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডোমার খামারে ২১১ একর জমিতে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০৩ একর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ একর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষের তথ্য জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
খামারের উপ-সহকারি পরিচালক রতন কুমার রায় বলেন, আগে খামারের জমিতে বছরে মূলত দুটি ফসল উৎপাদন হতো—ভিত্তি বীজ আলু ও গম। এখন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন শুরু হওয়ায় অনেক জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এবার ২১১ একর জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। আগে আলু আবাদের পর অনেক জমি দীর্ঘ সময় পতিত থাকত। এখন ওই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান আবাদ করা হচ্ছে।’
খামার কর্তৃপক্ষের মতে, আউশ ধানের জীবনকাল মাত্র ১১২ দিনের মতো হওয়ায় একই জমিতে পরবর্তী সময়ে আমন, আলু, ভুট্টা, সরিষা ও বিভিন্ন সবজি চাষ করা সম্ভব। ফলে জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি খামারের উৎপাদনশীলতাও বাড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আউশ ধান সাধারণত খরাসহিষ্ণু এবং তুলনামূলক কম সময়ে ঘরে তোলা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন অনিয়মিত বৃষ্টি ও খরার প্রবণতা বাড়ছে, তখন স্বল্পমেয়াদি ও খরাসহিষ্ণু জাতের আউশ ধানের মানসম্মত বীজ উৎপাদন কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ডোমার বিএডিসি খামারে উৎপাদিত ভিত্তি বীজ পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বীজ উৎপাদন ও আউশ চাষে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে শুধু একটি খামারের উৎপাদন বাড়ানো নয়, এর মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে মানসম্মত বীজের সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি মৌসুমে ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদিত বীজ পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আউশ আবাদ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
আউশ ধানের আবাদ শুধু পতিত জমির ব্যবহারই বাড়ায়নি, স্থানীয় কৃষি শ্রমিকদের জন্যও তৈরি করেছে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। চারা রোপণ, পরিচর্যা, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও বীজ গ্রেডিংসহ বিভিন্ন কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।
খামার সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চলতি মৌসুমে এ উদ্যোগের কারণে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে কৃষিশ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সংকট কিছুটা কমাতে এ আবাদ সহায়ক হচ্ছে।
কৃষিবিদদের মতে, একটি জমিতে একই ধরনের ফসলের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফসল চাষ করলে মাটির ওপর একতরফা চাপ কমে। আউশের পরবর্তী সময়ে আমন, আলু বা অন্যান্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় জমির উৎপাদনচক্রও আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়।
খামারের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা বলেন, ‘আউশ আবাদে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, রোগবালাইয়ের প্রকোপ কমে। পাশাপাশি ধৈঞ্চা চাষের মাধ্যমে সবুজ সার পাওয়া যায়। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে এবং আগাছার পরিমাণও কমে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বীজআলু উৎপাদনের আগে জমিতে আউশ ও অন্যান্য ফসলের আবাদ থাকায় জমির ব্যবহার বাড়ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
ডোমার খামারে আউশ ধানের আবাদে শুধু জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নয়, কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই এবং বীজ গ্রেডিং পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে শ্রমনির্ভরতা কিছুটা কমার পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার সময়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষিবিদদের মতে, দেশের সরকারি খামারগুলোতে বছরের বিভিন্ন সময়ের পতিত জমিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে খাদ্য ও বীজ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডোমার বিএডিসি খামারে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের উদ্যোগটি সেই সম্ভাবনার একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।
খামার কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন সম্ভব হলে আগামী মৌসুমগুলোতে এর পরিধি আরও বাড়ানো যাবে। এতে একদিকে দেশে মানসম্মত আউশ বীজের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে পতিত জমি ব্যবহার করে সরকারি খামারের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
‘এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না’—এ লক্ষ্য সামনে রেখে নীলফামারীর ডোমারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে শুরু হয়েছে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন। খামারের দীর্ঘদিন পতিত পড়ে থাকা জমিতে এবার ২১১ একরজুড়ে চাষ হয়েছে খরাসহিষ্ণু ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান সোনালি রূপ ধারণ করেছে। কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও মাড়াই ও বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি।
খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, চলতি মৌসুমে এসব জমি থেকে প্রায় ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বীজ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়—এমন আরও ৬০ থেকে ৭০ টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদিত ধান ও বীজের বাজারমূল্য তিন কোটি টাকার বেশি হতে পারে। উৎপাদিত ভিত্তি বীজ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার একর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অবস্থিত ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে সরেজমিন দেখা যায়, খামারের বিস্তীর্ণ মাঠে পাকা ধানের ঢেউ। কোথাও শ্রমিকরা ধান কাটছেন, কোথাও মেশিনে চলছে মাড়াই। আবার কোনো কোনো জমিতে ধান কেটে পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাঠজুড়ে ব্যস্ততা, আর বাতাসে দুলছে পাকা আউশ ধানের শীষ।
বিএডিসির এই বিশেষায়িত খামারের আয়তন প্রায় ৬৫০ একর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি প্রায় ৬০১ একর। মূলত ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনের জন্যই খামারটি প্রতিষ্ঠিত। প্রতি বছর আলু উৎপাদনের পর সীমিত পরিসরে গম ও কিছু জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করা হলেও বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় পতিত পড়ে থাকত।
এ অবস্থার পরিবর্তনে কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে আলুর পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয় খামার কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সাল থেকে ধাপে ধাপে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে খামার থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আউশ বীজ উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি মৌসুমে ডোমার ও দেবীগঞ্জ খামার মিলিয়ে আবাদযোগ্য প্রায় ৬০১ একর জমির বিভিন্ন অংশে আউশ, ধৈঞ্চা ও আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডোমার খামারে ২১১ একর জমিতে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০৩ একর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ একর জমিতে সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষের তথ্য জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
খামারের উপ-সহকারি পরিচালক রতন কুমার রায় বলেন, আগে খামারের জমিতে বছরে মূলত দুটি ফসল উৎপাদন হতো—ভিত্তি বীজ আলু ও গম। এখন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন শুরু হওয়ায় অনেক জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এবার ২১১ একর জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। আগে আলু আবাদের পর অনেক জমি দীর্ঘ সময় পতিত থাকত। এখন ওই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান আবাদ করা হচ্ছে।’
খামার কর্তৃপক্ষের মতে, আউশ ধানের জীবনকাল মাত্র ১১২ দিনের মতো হওয়ায় একই জমিতে পরবর্তী সময়ে আমন, আলু, ভুট্টা, সরিষা ও বিভিন্ন সবজি চাষ করা সম্ভব। ফলে জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি খামারের উৎপাদনশীলতাও বাড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আউশ ধান সাধারণত খরাসহিষ্ণু এবং তুলনামূলক কম সময়ে ঘরে তোলা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন অনিয়মিত বৃষ্টি ও খরার প্রবণতা বাড়ছে, তখন স্বল্পমেয়াদি ও খরাসহিষ্ণু জাতের আউশ ধানের মানসম্মত বীজ উৎপাদন কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ডোমার বিএডিসি খামারে উৎপাদিত ভিত্তি বীজ পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বীজ উৎপাদন ও আউশ চাষে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে শুধু একটি খামারের উৎপাদন বাড়ানো নয়, এর মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে মানসম্মত বীজের সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি মৌসুমে ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদিত বীজ পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আউশ আবাদ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
আউশ ধানের আবাদ শুধু পতিত জমির ব্যবহারই বাড়ায়নি, স্থানীয় কৃষি শ্রমিকদের জন্যও তৈরি করেছে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। চারা রোপণ, পরিচর্যা, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও বীজ গ্রেডিংসহ বিভিন্ন কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।
খামার সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, চলতি মৌসুমে এ উদ্যোগের কারণে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে কৃষিশ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সংকট কিছুটা কমাতে এ আবাদ সহায়ক হচ্ছে।
কৃষিবিদদের মতে, একটি জমিতে একই ধরনের ফসলের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফসল চাষ করলে মাটির ওপর একতরফা চাপ কমে। আউশের পরবর্তী সময়ে আমন, আলু বা অন্যান্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় জমির উৎপাদনচক্রও আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়।
খামারের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা বলেন, ‘আউশ আবাদে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, রোগবালাইয়ের প্রকোপ কমে। পাশাপাশি ধৈঞ্চা চাষের মাধ্যমে সবুজ সার পাওয়া যায়। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে এবং আগাছার পরিমাণও কমে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বীজআলু উৎপাদনের আগে জমিতে আউশ ও অন্যান্য ফসলের আবাদ থাকায় জমির ব্যবহার বাড়ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
ডোমার খামারে আউশ ধানের আবাদে শুধু জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নয়, কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই এবং বীজ গ্রেডিং পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে শ্রমনির্ভরতা কিছুটা কমার পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার সময়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষিবিদদের মতে, দেশের সরকারি খামারগুলোতে বছরের বিভিন্ন সময়ের পতিত জমিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে খাদ্য ও বীজ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডোমার বিএডিসি খামারে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনের উদ্যোগটি সেই সম্ভাবনার একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।
খামার কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদন সম্ভব হলে আগামী মৌসুমগুলোতে এর পরিধি আরও বাড়ানো যাবে। এতে একদিকে দেশে মানসম্মত আউশ বীজের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে পতিত জমি ব্যবহার করে সরকারি খামারের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন