আজকের ডোমার

সারাদেশ

নতুন ঘর করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ফিরল মেহেদীর নিথর দেহ

নতুন ঘর করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ফিরল মেহেদীর নিথর দেহ
ছবি-আজকের ডোমার

“গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম"। - এ ভাবেই আহাজারি করছিলেন ঢাকা বারিধারা এলাকায় কার চাপা দেওয়া মৃত মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মা মিনু বেগম (৫৬)। 

গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় K- ব্লোকে ১ নং রোডে ১৩ নং বাসার সামনে আছর নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছেলেন মেহেদী । এ সময় বিপরীত হতে আসা একটি কার চাপা দিলে ঘটনাস্থলে মেহেদীর মারা যায়। মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সোনারায় গ্রামের হাজীপাড়ার এরশাদুল হকের পুত্র। 

মেহেদীর মামাতো ভাই কান্না জড়িত কন্ঠে সাজ্জাদ চৌধুরী জয়(৩৪) বলেন, মেহেদী হাসান মিম একজন বাক প্রতিবন্ধী। সে শোনেও না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে ঢাকায় রওনা দেয়। গত মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর কাজ করত। আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারো টায় লাশ ডোমারে নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় জানাজা শেষে দাফন করে। তারা সেসহ দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির আলাদা সংসার রয়েছে। বোনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। বাবা-মাকে নিয়ে তার সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মা কে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ী ভিটাটা রয়েছে।সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন

আজকের ডোমার

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


নতুন ঘর করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ফিরল মেহেদীর নিথর দেহ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

“গত পরশু মোর ছাওয়ালটা ঢাকাত গেইল। কয়েক দিন আগে যাবার চাইছিল। মুই কনু এলা গরম রোদ চলেছে, এলা যাবার লাগিবে না। রোদ, গরম কমিলে তোমরা যান। সেই তানে রোদ কমিল তারপর এলা গেইল। মোর ছাওয়াটা কোইল এবার টাকা আনি ঘরটা নতুন করি ঠিক কোরিম"। - এ ভাবেই আহাজারি করছিলেন ঢাকা বারিধারা এলাকায় কার চাপা দেওয়া মৃত মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মা মিনু বেগম (৫৬)। 


গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার বারিধারা এলাকায় K- ব্লোকে ১ নং রোডে ১৩ নং বাসার সামনে আছর নামাজ পড়ে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছেলেন মেহেদী । এ সময় বিপরীত হতে আসা একটি কার চাপা দিলে ঘটনাস্থলে মেহেদীর মারা যায়। মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সোনারায় গ্রামের হাজীপাড়ার এরশাদুল হকের পুত্র। 


মেহেদীর মামাতো ভাই কান্না জড়িত কন্ঠে সাজ্জাদ চৌধুরী জয়(৩৪) বলেন, মেহেদী হাসান মিম একজন বাক প্রতিবন্ধী। সে শোনেও না,কথাও বলতে পারে না। সে ডোমার সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় সে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সাথে ঢাকায় রওনা দেয়। গত মঙ্গলবার ভোরে পৌঁছে। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর কাজ করত। আজ বুধবার সকাল সাড়ে এগারো টায় লাশ ডোমারে নিজ বাড়িতে পৌঁছে। দুপুর তিনটায় জানাজা শেষে দাফন করে। তারা সেসহ দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই মুক্তাদির আলাদা সংসার রয়েছে। বোনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। বাবা-মাকে নিয়ে তার সংসার। প্রতি মাসে সে তার বাবা-মা কে ১২-১৫ হাজার টাকা দিত। তাদের কোন আবাদী জমি নেই। শুধু বাড়ী ভিটাটা রয়েছে।সে সুন্দর করে কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করত। আর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ছিল।


আজকের ডোমার


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত আজকের ডোমার