পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি টেকসই, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নীলফামারী গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
সভায় প্রকল্পের পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবির এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নুর আলম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, জুট মিল, ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, টেক্সটাইল মিলসহ বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন অংশ নেন।
সভায় শিল্পকারখানায় পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন, বায়ু ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্প ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ এবং দূষণ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থা, বায়ু ও পানি দূষণসহ বিভিন্ন কারণে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশগত আইন ও বিধিবিধান বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবিষয়ক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তাঁরা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের নয়। সরকারি সংস্থা, শিল্পোদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন মেনে চলা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
সভায় নীলফামারীর পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি টেকসই, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নীলফামারী গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
সভায় প্রকল্পের পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবির এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নুর আলম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, জুট মিল, ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, টেক্সটাইল মিলসহ বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন অংশ নেন।
সভায় শিল্পকারখানায় পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন, বায়ু ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্প ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ এবং দূষণ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থা, বায়ু ও পানি দূষণসহ বিভিন্ন কারণে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশগত আইন ও বিধিবিধান বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবিষয়ক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তাঁরা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের নয়। সরকারি সংস্থা, শিল্পোদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন মেনে চলা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
সভায় নীলফামারীর পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন