মাদক সেবনের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিক মো. লিটন সরকারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নীলফামারী সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার নম্বর জিআর-৩৫।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারী জেলা জজ আদালত চত্বরের একটি হোটেলে ঢুকে লিটন সরকারকে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো খুর দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত লিটন সরকার নীলফামারী জেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং দৈনিক বাংলাদেশ সময়-এর জেলা প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট ‘মাদক সেবন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নীলফামারী তোলপাড়’ শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশ সময়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় না নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া এবং পরে তাঁদের মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ নেওয়া বা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেন লিটন সরকার। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সময় ও যমুনা সংবাদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে লিটন সরকার জেলা জজ আদালত চত্বরের সম্রাট হোসেন বাবুর হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আফতাবুজ্জামান বিপ্লব, রিঙ্কু ও জহুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি, লোহার রড, ধারালো খুর ও ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা লিটন সরকারকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। একপর্যায়ে আফতাবুজ্জামান বিপ্লব ধারালো খুর দিয়ে তাঁর গলা কাটার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবন বাঁচাতে লিটন সরকার বাম হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রটি তাঁর বাম বাহুতে লাগে। এতে তাঁর গভীর কাটা জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের মালিক, সেখানে থাকা লোকজন ও কয়েকজন আইনজীবী এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত সাংবাদিককে ইজিবাইকে করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—সৈয়দপুরের ঢেলাপির পুলপাড়া এলাকার আফতাবুজ্জামান বিপ্লব (৪০), রিঙ্কু (পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী) এবং নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকার জহুরুল ইসলাম (৪৮)। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিটন সরকারের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোছা. মাতিনা আক্তার সদর থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহার পাওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউজ্জামান বলেন, তিনি ওই সময় বাইরে থাকায় এজাহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। অফিসে ফিরে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত বলতে পারবেন।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘এজাহার পাওয়ামাত্র মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
মাদক সেবনের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিক মো. লিটন সরকারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নীলফামারী সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার নম্বর জিআর-৩৫।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারী জেলা জজ আদালত চত্বরের একটি হোটেলে ঢুকে লিটন সরকারকে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো খুর দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত লিটন সরকার নীলফামারী জেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং দৈনিক বাংলাদেশ সময়-এর জেলা প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট ‘মাদক সেবন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নীলফামারী তোলপাড়’ শিরোনামে দৈনিক বাংলাদেশ সময়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় না নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া এবং পরে তাঁদের মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ নেওয়া বা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেন লিটন সরকার। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সময় ও যমুনা সংবাদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে লিটন সরকার জেলা জজ আদালত চত্বরের সম্রাট হোসেন বাবুর হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আফতাবুজ্জামান বিপ্লব, রিঙ্কু ও জহুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি, লোহার রড, ধারালো খুর ও ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা লিটন সরকারকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। একপর্যায়ে আফতাবুজ্জামান বিপ্লব ধারালো খুর দিয়ে তাঁর গলা কাটার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবন বাঁচাতে লিটন সরকার বাম হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রটি তাঁর বাম বাহুতে লাগে। এতে তাঁর গভীর কাটা জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের মালিক, সেখানে থাকা লোকজন ও কয়েকজন আইনজীবী এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত সাংবাদিককে ইজিবাইকে করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—সৈয়দপুরের ঢেলাপির পুলপাড়া এলাকার আফতাবুজ্জামান বিপ্লব (৪০), রিঙ্কু (পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী) এবং নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকার জহুরুল ইসলাম (৪৮)। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিটন সরকারের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোছা. মাতিনা আক্তার সদর থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহার পাওয়ার পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউজ্জামান বলেন, তিনি ওই সময় বাইরে থাকায় এজাহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। অফিসে ফিরে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত বলতে পারবেন।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘এজাহার পাওয়ামাত্র মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন