জীবনের সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একজন মানুষের সবচেয়ে গভীর পরিচয়—তিনি কারও সন্তান। সেই মানবিক বাস্তবতারই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো নীলফামারী। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময় শেষ হতেই আবার ফিরে যেতে হয় রংপুর জেলা কারাগারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় নীলফামারীতে আনা হয় তাকে। পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল মঞ্জুর করে।
জানা গেছে, শাহিদ মাহমুদের মা রওশন আরা সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুসংবাদ কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সাময়িক মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউজ ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি অংশ নেন। সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে মায়ের জন্য দোয়া করেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অল্প কিছু সময় কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবার তাকে রংপুর জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, "মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য শাহিদ মাহমুদকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। শহরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রংপুর জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার এ এস এম কামরুল হুদার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি শাহিদ মাহমুদ। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর জেলা কারাগারে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে রয়েছেন।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, মায়ের শেষ বিদায়ে কয়েক ঘণ্টার এই সাময়িক মুক্তি স্মরণ করিয়ে দিল—আইনের কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক বিবেচনারও একটি জায়গা রয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
জীবনের সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একজন মানুষের সবচেয়ে গভীর পরিচয়—তিনি কারও সন্তান। সেই মানবিক বাস্তবতারই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো নীলফামারী। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময় শেষ হতেই আবার ফিরে যেতে হয় রংপুর জেলা কারাগারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় নীলফামারীতে আনা হয় তাকে। পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল মঞ্জুর করে।
জানা গেছে, শাহিদ মাহমুদের মা রওশন আরা সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুসংবাদ কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সাময়িক মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউজ ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি অংশ নেন। সেখানে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে মায়ের জন্য দোয়া করেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অল্প কিছু সময় কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবার তাকে রংপুর জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, "মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য শাহিদ মাহমুদকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। শহরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রংপুর জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার এ এস এম কামরুল হুদার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি শাহিদ মাহমুদ। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর জেলা কারাগারে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে রয়েছেন।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, মায়ের শেষ বিদায়ে কয়েক ঘণ্টার এই সাময়িক মুক্তি স্মরণ করিয়ে দিল—আইনের কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক বিবেচনারও একটি জায়গা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন